সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

সিআইডির তদন্তে গ্রেপ্তার অন্তত ২০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা ১২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে চলমান এ আন্দোলন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে শত শত চাকরিপ্রার্থী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গত ৫ জুলাই ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। দিন-রাত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।ক্রমবর্ধমান এ আন্দোলনের মুখে হেমন্ত সোরেন সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। বুধবার রাঁচির মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিও) কুমার রজত আন্দোলনস্থল পরিদর্শন করে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহের কথা জানান। এ লক্ষ্যে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা প্রকাশ্যে এবং গণমাধ্যম ও ক্যামেরার উপস্থিতিতে হতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হলেই তারা আলোচনায় অংশ নেবেন।এদিকে আন্দোলনকারীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) দিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সিআইডি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিআইডি বুধবার পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করে রাঁচিতে নিয়ে এসেছে। তিনি পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার সদস্য ছিলেন। এছাড়া এ মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এনডিটিভি জানিয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডিজিটাল রেকর্ড, আবেদনপত্রের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বুধবার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের আন্দোলন একটি কার্যকর ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করবে।মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে তিনি জানান, সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থন জানাতে ঝাড়খণ্ডে যাবেন। তার ভাষ্য, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিক আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত