মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
spot_img

সাইকেল চুরিতে বন্ধ হয়েছিল আয়, এইচএসসি পরীক্ষার্থী জামশেদের পাশে চট্টগ্রামের ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। এ সময়ে একজন শিক্ষার্থীর ব্যস্ত থাকার কথা পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু পরিবারের চার সদস্যের ভরণপোষণের দায়িত্ব অনেকটাই কাঁধে থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে চট্টগ্রাম সরকারি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী জামশেদুল ইসলামকে।

সাইকেলে করে খাবার পৌঁছে দিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়েই চলত পরিবারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা। তবে হঠাৎ তাঁর সেই সাইকেলটি চুরি হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় আয়ের পথ। নতুন সাইকেল কেনার সামর্থ্য না থাকায় সংসার চালানো, পড়াশোনা ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান জামশেদ।এ অবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সোমবার (১০ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জামশেদের হাতে তাঁর পছন্দের একটি নতুন সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, জামশেদ চট্টগ্রাম সরকারি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মক্ষমতাহীন। ফলে চার সদস্যের পরিবারের ব্যয়ভার বহনে জামশেদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয় পরিবারকে।

পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও পড়াশোনা ছেড়ে দেননি জামশেদ। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটাতে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সাইকেলটি ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন। সেটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর তিনি নতুন সাইকেল কেনার জন্য আর্থিক সংকটে পড়েন।পরে বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন করেন জামশেদ। তাঁর আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি জামশেদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পড়াশোনা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও কাজের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাঁর জন্য নতুন একটি সাইকেলের ব্যবস্থা করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একজন ছাত্র নিজে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে—আমি তার এই কাজটাকে সম্মান জানাতে চাই। সে কাজও করতে চেয়েছে, আবার পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে চেয়েছে। জেলা প্রশাসন তাই তার পাশে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না, কোনো অবস্থাতেই তার পড়াশোনা বন্ধ হোক।’শিক্ষার্থীদের দেশের শক্তি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হতাশ না হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সৎভাবে কাজ করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। নতুন সাইকেল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জামশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সাইকেলটি চুরি হওয়ার পর খুব সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। নতুন সাইকেল কেনার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যার আমার সমস্যার কথা শুনে পছন্দমতো একটি সাইকেল কিনে দিয়েছেন। এখন আবার কাজ করতে পারব, পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারব।’

জামশেদের জন্য নতুন সাইকেলটি শুধু যাতায়াতের বাহন নয়; এটি তাঁর পরিবারের জীবিকা এবং নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম অবলম্বন। সাইকেলটি হাতে পাওয়ায় আবারও ডেলিভারি রাইডারের কাজে ফিরতে পারবেন তিনি। পরীক্ষার ফাঁকে একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন—দুই পথেই এগিয়ে চলবেন এই সংগ্রামী শিক্ষার্থী।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত