
জার্মানির কাছ থেকে ৬টি উন্নত কনভেনশনাল সাবমেরিন কেনার পথে এগোচ্ছে ভারত। এ জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০ হাজার কোটি রুপি বাজেট ধরা হয়েছে। সাবমেরিন কেনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া’ বা ‘পি-৭৫ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত এ প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে বলে জানা গেছে।প্রস্তাব অনুমোদিত হলে জার্মানির সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) এবং ভারতের মুম্বাইভিত্তিক মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড যৌথভাবে সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এগুলো তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলো টাইপ-২১৪ শ্রেণির এবং এতে ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন’ বা এআইপি প্রযুক্তি থাকবে। এ প্রযুক্তির কারণে সাধারণ কনভেনশনাল সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম হবে এগুলো।সাবমেরিনগুলোর অস্ত্রসজ্জায় ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব, হেভিওয়েট টর্পেডো, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্করণ থাকার কথা রয়েছে।প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ মিটার এবং এগুলো বিশেষ ধরনের ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাবমেরিনের চৌম্বকীয় স্বাক্ষর কম থাকবে এবং শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়ানোর সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভারতীয় নৌবাহিনী ২০১৮ সালে উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন ৬টি সাবমেরিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। সে সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার কোটি রুপি।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এর আগে জার্মানির প্রযুক্তির সহায়তায় সাবমেরিন সংগ্রহের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতের। পাশাপাশি ফরাসি প্রযুক্তিগত সহায়তায় ‘প্রজেক্ট ৭৫’-এর আওতায় কলভরি শ্রেণির স্করপেন সাবমেরিনও নির্মাণ করেছে দেশটি।


