
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—প্রধান আসামি শেখ সিফাত, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, মোসা. মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান ওরফে জিসান।পুলিশ জানায়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল পেশায় একজন ইজিবাইক গ্যারেজ ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এ কারণে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে পুলিশ জানায়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই জেরে গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাতসহ ১০ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের গতিরোধ করে।
এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে রাতে বন্দরের পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে প্রধান আসামি সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ১৪টি মামলা, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


