
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক পত্রে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। একই সঙ্গে শিপইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।স্কপ জানায়, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মালিকপক্ষ, ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।নিহত শ্রমিকদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে স্কপ। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় মালিকপক্ষকে বহন এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও বয়স বিবেচনায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জাহাজ কাটার আগে বাধ্যতামূলক গ্যাস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (PPE), উদ্ধার ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শ্রমিককে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত না করা, শিপইয়ার্ডে নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শ্রম আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানায় সংগঠনটি।জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ২২ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অন্যান্য আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।স্কপের নেতারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের মৃত্যুও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। শিপইয়ার্ডে বারবার দুর্ঘটনা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে মালিকপক্ষ, সরকার, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং শ্রমিক পক্ষের সমন্বয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কে এম শহিদুল্লাহ, রেজোয়ানুর রহমান খান, আব্দুল বাতেন, অ্যাডভোকেট এমরান, নুরুল আবছার তৌহিদ, আবু আহম্মদ, গোলজার বেগম, আলকাদরী জয়, সোহাগ হোসেন, মোজ্জাপর চৌধুরীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


