রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: চসিক প্রশাসক

কঠিন চীবর দানোৎসবে চসিক প্রশাসক, নগরীকে ‘রেইনবো সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়তে চাই: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরীকে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য চট্টগ্রামের অন্যতম শক্তি। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করে এমন একটি ‘রেইনবো সিটি’ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের সিইপিজেড এলাকায় বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম মৈত্রী বন বিহারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে এমন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের রয়েছে শত শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য। বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাশাপাশি বসবাস করছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্য আরও শক্তিশালী করতে হবে।

নগর উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে চসিক প্রশাসক বলেন, একটি শহর শুধু বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে উন্নত হয় না। শহরের মানুষ কতটা নিরাপদ, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন—সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে ‘গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সবুজায়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজেকে নগরের সমান অংশীদার মনে করেন, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা শুধু প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। কোনো ধর্মই অন্যের প্রতি বিদ্বেষ কিংবা অন্যায় আচরণকে উৎসাহিত করে না। নিজ নিজ ধর্মের মানবিক শিক্ষাগুলো অনুসরণ করলে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

বৌদ্ধধর্মের অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি, সংযম ও সহমর্মিতার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দান, ত্যাগ, সংযম ও মানবকল্যাণের যে শিক্ষা এই উৎসব বহন করে, তা সবার জন্য অনুকরণীয়।

অনুষ্ঠানে পুণ্যবান ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, জ্যেষ্ঠ আবাসিক ভিক্ষু সৌরজগত মহাস্থবির এবং চট্টগ্রাম মৈত্রী বন বিহারের অধ্যক্ষ বিজ্ঞানানন্দ মহাস্থবিরসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা। এ ছাড়া বৌদ্ধধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত