
গ্রেপ্তারের একদিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সনদে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২০২৪ সালে সাতকানিয়া থানায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার বিকেলে কারাগারে আনার সময় নুরুল আলম সুস্থ ছিলেন। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রাতেও তিনি কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানাননি। তবে বুধবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
জেল সুপার আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় অবস্থানকালে তিনি সুস্থ-সবল ছিলেন। তাকে কেউ মারধর করেনি। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


