শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
spot_img

প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কোনো শিশু যেন এই কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই চসিক সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”

রোববার (২৮ জুন) চসিক জেনারেল হাসপাতালে একটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা। তিনি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, গুরুত্ব এবং চসিকের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

মেয়র বলেন, শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।তিনি জানান, এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত কেন্দ্রের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশুই এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে।মেয়র আরও বলেন, জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকে। এছাড়া গত চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে যারা ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করেছে, তাদের পুনরায় ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে শিশুদের ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মেয়র। তিনি জানান, চলতি বছরে চট্টগ্রাম নগরীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি নগরবাসীকে বাসাবাড়ি, ছাদ, টব, এসির ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নগরীর ২, ৩, ১০, ১৭, ১৯, ৩৪, ৩৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক বিটিআই প্রযুক্তি ও কার্যকর লার্ভানাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যবান নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের হয়রানি বন্ধ, হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিসেফ চট্টগ্রাম বিভাগের চিফ অব ফিল্ড অফিস মাধুরী ব্যানার্জী, চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হোসনে আরা বেগম ও ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ইউনিসেফের নিউট্রিশন অফিসার ডা. উবা সুই চৌধুরী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত